ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছু সময় পার হওয়ার আগেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও সিটির ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেনি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে ভোটপ্রচারণা শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময় সভা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগরে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করা মূল লক্ষ্য। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে জামায়াত এককভাবে জয়ী হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের আসনটিতেও দলটি জিতেছে। ফলে এবার সিটি করপোরেশনের প্রার্থী বাছাইয়ে জামায়াত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দলের প্রথম লক্ষ্য হলো সরাসরি দলীয় পদবি থাকা প্রার্থী নির্বাচন করা, আর যদি এমন প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে যাদের পরিবারের কোনো সদস্য জামায়াত সংশ্লিষ্টতা রাখে এবং জনমতের দিক থেকে জনপ্রিয় তারা দ্বিতীয় লক্ষ্য।
ক্ষমতাসীন বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির সদস্যসচিব মাহফুজ-উন-নবী ডন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেতা কাওসার জামান বাবলাও।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তানবীর হোসেন আশরাফিও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে নীরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রংপুর-৩ সদর আসনে জাতীয় পার্টির আসনে জামায়াত এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোটে জয়ী হয়। বিএনপির শমছুজ্জামান সামু ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট পান এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পান ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। ফলে জামায়াত নগর ভবন অন্য কোনো দলের হাতে না যেতে তৎপর।
প্রার্থীরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা ও উঠান বৈঠক আয়োজন, ফেসবুক লাইভ ও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে প্রচারণা চালানো, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সমস্যার সমাধান করা—এসব মাধ্যমে নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, তিনি ছাত্রদল ও জেলা বিএনপিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল তাকে মূল্যায়ন করবে।
জামায়াতের রংপুর মহানগর আমীর অধ্যাপক এ টি এম আজম খান জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, তবে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তিনি মেয়র থাকাকালীন অন্যায়ভাবে অপসারণের শিকার হয়েছেন এবং এবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব আলম বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থীরা সফট ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ ও প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে।
সিএ/এএ


