লিবিয়া ও গ্রিসের উপকূলে পৃথক দুটি নৌদুর্ঘটনায় অন্তত আটজন আশ্রয়প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে লিবিয়ার উপকূলে এবং বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে গ্রিস উপকূলে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে খবর জানায় আল জাজিরা।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে কাসর আল-আখিয়া উপকূলে শনিবার সকালে পাঁচটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে সেগুলো দেখতে পান। কাসর আল-আখিয়ার থানার তদন্ত প্রধান হাসান আল-ঘাওইল বলেন, পাঁচজনের সবাই কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের মধ্যে দুইজন নারী। তিনি জানান, স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহও দেখেছিল, কিন্তু ঢেউ সেটিকে আবার সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রেড ক্রিসেন্টকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই সময়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ক্রীট দ্বীপের কাছে আরেকটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। একটি কাঠের নৌকা ডুবে গেলে অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মিশর ও সুদানের নাগরিক, তাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। গ্রিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধার প্রচেষ্টার সময় যাত্রীদের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টায় নৌকাটি উল্টে যায়। এখনো অভিযান চলছে, যাতে কোস্টগার্ড, টহল নৌকা, বিমান এবং Frontex–এর একটি জাহাজ অংশ নিয়েছে।
বেঁচে থাকা যাত্রীরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে প্রায় ৫০ জন ছিলেন। কাছেই আরও একটি নৌকা দেখা যায়, যাতে প্রায় ৪০ জন অভিবাসী ছিলেন। তাদের উদ্ধারে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর আগে International Organization for Migration (আইওএম) জানায়, ফেব্রুয়ারির শুরুতে লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলে রাবারের একটি নৌকা ডুবে ৫৩ জন মারা যান বা নিখোঁজ হন। শুধু জানুয়ারিতেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কমপক্ষে ৩৭৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপমুখী অভিবাসীদের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় থাকা অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও দাসত্বের ঝুঁকিতে থাকেন। সে কারণে মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ক্রীট হয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন ১৬ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী। সে বছর গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


