হজরত মুহাম্মদ (সা.) চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নির্জনতা ও একাকীত্ব পছন্দ করতে শুরু করেন। সমাজের অবক্ষয়, অন্যায় ও মূর্তিপূজার ভ্রান্তির মধ্যে থেকেও তিনি পবিত্র ও চিন্তাশীল ছিলেন। সত্য সন্ধানেই তিনি হেরা গুহার নির্জন আশ্রয়ে যান।
হেরা গুহা মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে, প্রায় দুই হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত। গুহার ভেতরের পরিসর ছোট, তবে ধ্যান ও ইবাদতের জন্য যথেষ্ট। নবীজি (সা.) এখানে বসে বা শুয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হতেন, কাবার দিকে দৃষ্টি রাখতেন এবং সৃষ্টিজগত ও স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা করতেন।
ছয় মাস ধরে তিনি স্বপ্নে যা দেখতেন, তা দিনের আলোয় বাস্তবে ঘটত। ইসলামি ঐতিহ্যে একে ‘স্বপ্নে ওহির সূচনা’ বলা হয়। এরপর ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে নবীজিকে (সা.) ‘পড়ো’ নির্দেশ দেন। তিনবার একই নির্দেশ দেওয়া হয়, নবীজি (সা.) উত্তর দেন, ‘আমি তো পড়তে জানি না’। অবশেষে নাজিল হয় কোরআনের প্রথম আয়াত।
নবীজির (সা.) বয়স তখন চল্লিশ বছর ছয় মাস। হেরা গুহা থেকে ফিরে তিনি সব ঘটনা হযরত খাদিজা (রা.)-কে জানান। খাদিজা (রা.) নবীজিকে সান্ত্বনা দেন। এরপর তিনি এক আত্মীয় ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে যান। ওয়ারাকা নবীজিকে আশ্বাস দেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষণ।
প্রথম তিন বছর নবীজি (সা.) গোপনে ইসলামের দাওয়াত দেন। পরে আল্লাহর নির্দেশে নিকটতম আত্মীয়দের প্রকাশ্যে দাওয়াত দেন। প্রথম ভোজে গোত্র বনু হাশেমের কাছে বার্তা তুলে ধরেন, কিন্তু সবাই সাড়া দেয়নি। একমাত্র কিশোর আলি (রা.) নবীজির (সা.) পাশে দাঁড়ান।
সিএ/এমআর


