বর্ষাকালে আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কখনও মুষলধারে বৃষ্টি, আবার কখনও ঝিরঝিরে। গাছের জন্য পানি যেমন উপকারী, তেমনি অতিরিক্ত পানি বিপদের কারণও হতে পারে। টবের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বর্ষা মৌসুমে ছাদ বাগানের যত্নে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
বর্ষায় ছাদ বাগান সাজাতে গেলে প্রথমেই টবের অবস্থানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। টবগুলো ছাদের প্রাচীর থেকে কয়েক ইঞ্চি ফাঁক রেখে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি টবের মাঝেও যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা রাখা ভালো। এতে বৃষ্টির পানি জমে থাকার আশঙ্কা কমে এবং পানি সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। ছাদে পানি জমে থাকলে বাড়ির ক্ষতিও হতে পারে। এ ছাড়া গাছের পাতা ঝরে বা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে অনেক সময় ছাদের নর্দমার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ছাদ পরিষ্কার রাখাও জরুরি।
গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রবল বৃষ্টির পর সম্ভব হলে টবে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। একই সঙ্গে টবের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। টবের নিচের ছিদ্র মাটি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার। মাঝেমধ্যে টবের মাটি আলগা করে দিলে পানি বের হতে সুবিধা হয়।
বর্ষাকালে সাধারণত গাছে অতিরিক্ত সারের প্রয়োজন হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে সার দেওয়া ভালো। তবে ঘরের ভেতরে রাখা গাছে প্রয়োজনে সার দেওয়া যেতে পারে। পানিও দিতে হবে গাছের প্রয়োজন বুঝে।
বর্ষার সময় অনেক গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া বা কুঁকড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। টবের মাটিতে পানি জমে থাকলে এমনটা হতে পারে। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। যেসব গাছে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেগুলোর মাটি নতুন করে তৈরি করা যেতে পারে। মাটির সঙ্গে বালি মেশানো থাকলে সাধারণত পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়।
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ছত্রাক ও পোকার আক্রমণও বেশি হয়। একটি গাছে পোকা লাগলে তা দ্রুত অন্য গাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো গাছে এমন সমস্যা দেখা দিলে সেটি আগে আশপাশের গাছ থেকে আলাদা করতে হবে। এরপর পানির সঙ্গে নিমতেল মিশিয়ে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যায়। সুস্থ গাছেও মাঝেমধ্যে এটি ব্যবহার করলে পোকার বা ছত্রাকের আক্রমণ এড়ানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


