ইতালিতে ২০২৬–২৮ মেয়াদের তিন বছরের কর্মসূচির আওতায় পাঁচ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের ‘ক্লিক ডে’ সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জনের কোটায় বিভিন্ন খাতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়।
তবে এবার কঠোর শর্ত এবং জটিল আবেদন পদ্ধতির কারণে প্রত্যাশার তুলনায় আবেদন সংখ্যা অন্যান্য বছরে তুলনায় কম হয়েছে। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারণা, যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
অপরদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও ‘ক্লিক ডে’র ত্রুটির কারণে ইতালিতে বহু বিদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইতালির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত এক বার্ষিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইতালি সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর কোটা নির্ধারণ করে স্পন্সর ভিসায় বিদেশি শ্রমিক প্রবেশের অনুমোদন দিয়ে থাকে। যদিও বাস্তবে এই অনুমোদনের হার খুবই কম। প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্লিক ডের ত্রুটিতে বহু শ্রমিক অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের স্পন্সর ভিসার কোটা ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০টি। তবে সফলভাবে ইতালিতে থাকার অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৮ জন, যা মাত্র ১৬ দশমিক ৯ ভাগ। ২০২৫ সালের কোটা বাড়িয়ে করা হয় ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০। কিন্তু এতে মাত্র ১৪ হাজার ৩৪৯ জন অনুমোদন পেয়েছেন, যার শতকরা হার মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
ইতালিতে আসা এসব শ্রমিক দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতায় অনেকে অবৈধ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশের নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারের প্রতি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সঠিক উপায়ে ভিসা ও থাকার অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিএ/এএ


