রমজান কেবল একটি মাস নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ এক অনুগ্রহের সময়। সুস্থ–অসুস্থ, শক্ত–দুর্বল, প্রস্তুত–অপ্রস্তুত—সব মানুষের জন্যই এই মাসের দরজা খোলা থাকে। অনেকেই অসুস্থতা, ক্লান্তি বা মানসিক চাপ নিয়ে রমজানে প্রবেশ করেন, আবার অনেকে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
ইসলামি দৃষ্টিতে আল্লাহ বান্দার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব দেন না। প্রত্যেকের বাস্তবতা অনুযায়ী আমলের মূল্যায়ন হয়। আল্লাহ শুধু বাহ্যিক আমল নয়, বরং অন্তরের ইচ্ছা ও নিয়তকে গুরুত্ব দেন।
রমজানের মূল ভিত্তি হলো আন্তরিক নিয়ত। শরীর যতটুকু সায় দেয়, ততটুকু আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। সুস্থ অবস্থায় নিয়মিত যে আমল করা হতো, অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব না হলেও তার সওয়াব বন্ধ হয় না।
এই মাসে তওবা বান্দার জন্য বড় সুযোগ। গুনাহের বোঝা হালকা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ তৈরি করে তওবা। পাশাপাশি অল্প হলেও কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইমানকে শক্তিশালী করে।
তাহাজ্জুদ, জিকির ও ইস্তিগফারও রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল। শরীর সায় না দিলে অন্তরের ইচ্ছাটুকুও আল্লাহর কাছে মূল্যবান। রমজান দোয়া কবুলের মাস, যেখানে বান্দার আন্তরিক আর্তনাদই সবচেয়ে বড় ভাষা।
রমজান শুধু রোজা রাখার সময় নয়; এটি ভেঙে যাওয়া হৃদয় জোড়া লাগানোর মাস। দুর্বল বান্দার ছোট ছোট আমলও আল্লাহর কাছে বড় হয়ে ওঠে এই মাসে।
সিএ/এমআর


