ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কেলেঙ্কারির জেরে রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তার বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে নতুন আইন আনার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। আইনটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে তার রাজা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবে।
বর্তমানে সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা অ্যান্ড্রুর বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের কারণে তিনি রাজকীয় দায়িত্ব ও বেশ কয়েকটি উপাধি হারিয়েছেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতারা বলেছেন, পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালানোর সুযোগ দিতে হবে। তবে সময়মতো পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে প্রয়োজনীয় আইন পাসে তারা সমর্থন দিতে পারেন। অন্যদিকে কিছু লেবার পার্টির সংসদ সদস্য মনে করছেন, অ্যান্ড্রুর রাজা হওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই নেই, তাই নতুন আইন আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সম্পর্কিত যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পাশাপাশি প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও উঠে আসে। কিছু ইমেইলে এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যায়।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইন একজন যোগাযোগকারী ব্যক্তিকে ২৬ বছর বয়সী এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়া প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে অ্যান্ড্রু বলে ধারণা করা একজন ব্যক্তি মেঝেতে শুয়ে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন।
নথিগুলো প্রকাশের পর আবারও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা করা উচিত।
এরপর রাজা তৃতীয় চার্লসও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগগুলো টেমস ভ্যালি পুলিশ তদন্ত করলে রাজপ্রাসাদ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, অ্যান্ড্রুকে নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগে রাজা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে অভিযোগের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব তার নিজের।
গত বৃহস্পতিবার পাবলিক অফিসে অসদাচরণের সন্দেহে অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সিএ/এসএ
সূত্র: বিবিসি


