সন্তান ১৮ বছরে পা দেওয়ার আগেই বা প্রেমে পড়ার আগে তাকে সম্পর্কের বাস্তবতা বোঝানো অত্যন্ত জরুরি। সম্পর্ক মানে কেবল আবেগ বা আকর্ষণ নয়, বরং সম্মান, দায়িত্ব ও মানসিক পরিপক্বতার সমন্বয়। সন্তানকে আগেভাগেই জানাতে হবে, ভালোবাসা কখনোই আরেকজনকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয়। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সম্মান, প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানকে সম্পর্কে জড়ানোর আগে আবেগগত বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যকর সীমানা এবং আত্মসম্মান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। ভালোবাসার নামে তাড়াহুড়া, চাপ কিংবা অসম্মান মেনে নেওয়া যে ভুল, সেটিও তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক সম্মান। সময়ের সঙ্গে আকর্ষণ কমে যেতে পারে, কিন্তু সম্মান থাকলে সম্পর্ক টিকে থাকে। দয়া ও সততা একজন মানুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুণ—এ বিষয়টি সন্তানকে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি।
ভালোবাসা কাউকে সারিয়ে তোলে না, বরং অনুপ্রাণিত করতে পারে—এই বাস্তবতাও সন্তানকে জানাতে হবে। ট্রমা কাটাতে বা নিজেকে ঠিক করার আশায় সম্পর্কে জড়ানো যে ভুল সিদ্ধান্ত, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
‘না’ বলতে শেখানো, ভুল সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সাহস জোগানো এবং নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা সন্তানকে দিতে হবে। ভালোবাসা মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়, বরং সঠিক মানুষের সঙ্গে আরও ভালোভাবে নিজেকে খুঁজে পাওয়া।
সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু অসম্মান, সহিংসতা বা টক্সিক আচরণের কোনো জায়গা নেই—এ বিষয়েও সন্তানকে সচেতন করতে হবে। ক্ষমা করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বারবার অন্যায় মেনে নেওয়া যে আত্মসম্মানের বিরুদ্ধে, সেটিও তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
তাড়াহুড়া না করে ধীরে সম্পর্কে এগোনো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নেওয়া এবং আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর সম্পর্কে জড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। এতে সন্তান ভবিষ্যতে সুস্থ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
সিএ/এমআর


