একজন বাবা সন্তানের জীবনে নিরাপত্তা, মূল্যবোধ ও নীরব দিকনির্দেশনার অন্যতম প্রধান উৎস। তবে সন্তানের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও ধীরে ধীরে বদলে যায়। শিশু বয়সে যে বাবা নিরাপদ আশ্রয়, সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন নায়ক, শিক্ষক, রক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধু।
শৈশবের শুরুতে, অর্থাৎ জন্ম থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত, বাবার কোলই শিশুর কাছে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। এই সময়ে শিশুরা বাবার কণ্ঠ, স্পর্শ ও উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্বাস ও ভালোবাসা অনুভব করে। বাবার আচরণ ও কাছে থাকার ভঙ্গিই তাদের মনে নিরাপত্তার বোধ গড়ে তোলে।
তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সে বাবাই হয়ে ওঠেন শিশুর চোখে নায়ক। এই বয়সে বাবার সঙ্গে খেলাধুলা, কোলে নেওয়া কিংবা আদর করা সন্তানের মনে গভীর ভালোবাসার স্মৃতি তৈরি করে। বাবার আচরণ থেকেই শিশুরা শেখে ভালোবাসা কীভাবে প্রকাশ পায়।
ছয় থেকে নয় বছর বয়সে বাবা হয়ে ওঠেন শিক্ষক। শিশুরা এ সময় বাবার কাজ, কথা বলার ধরন ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গভীরভাবে লক্ষ করে। বাবার দৈনন্দিন আচরণই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় পাঠ হয়ে ওঠে।
দশ থেকে বারো বছর বয়সে সন্তানের কাছে বাবার ভূমিকা হয় রক্ষকের। এই বয়সে শিশুরা চায় কেউ তাদের কথা মন দিয়ে শুনুক এবং ভয় বা কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়াক। বাবার আশ্বাস তখন তাদের কাছে বড় নিরাপত্তা হয়ে দাঁড়ায়।
কিশোর বয়সে, অর্থাৎ তেরো থেকে ষোলো বছরে, বাবা হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক। সন্তানেরা নিজেদের পরিচয় গড়ার চেষ্টা করে, তবু বাবার আচরণ ও জীবনবোধ গভীরভাবে তাদের প্রভাবিত করে। বাবার ধৈর্য, সম্মানবোধ ও সীমারেখা টানার কৌশল থেকেই তারা শেখে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
সতেরো থেকে বিশ বছর বয়সে বাবাকে দেখা হয় আদর্শ হিসেবে। এই সময় সন্তান নিজের জীবন গড়ার পথে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বাবার শেখানো মূল্যবোধ ও ভালোবাসা তাদের পথচলায় বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ থেকে পঁচিশ বছর বয়সে বাবা হয়ে ওঠেন বন্ধুর মতো। এ সময় সন্তানেরা বাবাকে নিখুঁত মনে না করলেও কঠিন সময়ে বাবার পাশে থাকার স্মৃতিই তাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে থাকে।
এই দীর্ঘ যাত্রায় বাবার প্রতিটি আচরণ, কথা ও উপস্থিতি সন্তানের মানসিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও জীবনবোধকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করে।
সিএ/এমআর


