মহাবিশ্বের এক বিরল ও বিস্ময়কর মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা, যেখানে একটি বিশাল ব্ল্যাক হোল একটি তারা গিলে ফেলার কয়েক বছর পরও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, তারাটিকে গ্রাস করার পরও ব্ল্যাক হোলটি যেন এখনো ‘বদহজমে’ ভুগছে এবং ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী জেট বা মহাজাগতিক বস্তুর স্রোত ছুড়ে দিচ্ছে।
নিউ মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গবেষকরা পৃথিবীর মিল্কিওয়ে ছায়াপথের অনেক বাইরে থাকা একটি দূরবর্তী ছায়াপথের কেন্দ্রে এই ব্ল্যাক হোলটির সন্ধান পান। গবেষণা সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক হোলটি এর খুব কাছাকাছি চলে আসা একটি তারাকে ছিন্নভিন্ন করে গিলে ফেলে।
এই ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক দিক হলো, তারাটি গ্রাস করার প্রায় দুই বছর পরও কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে শুরু হয় ভয়ংকর শক্তিশালী বস্তুর স্রোত নির্গমন, যা গত ছয় বছর ধরে অবিরাম চলছেই। বিজ্ঞানীদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন তীব্রতা আগে কখনো দেখা যায়নি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে এই উৎস থেকে নির্গত আলো ও রেডিও তরঙ্গের উজ্জ্বলতা প্রথম পর্যবেক্ষণের সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেড়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এই উজ্জ্বলতা বাড়ছে এবং থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই, যা গবেষকদের জন্য বড় বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্ল্যাক হোলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ৫০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এর ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ৫০ লাখ গুণ বেশি, যা মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা বিশাল ব্ল্যাক হোলটির ভরের কাছাকাছি। যে তারাটি এই ব্ল্যাক হোলের শিকার হয়েছিল, সেটি ছিল একটি লাল বামন তারা, যার ভর সূর্যের ভরের মাত্র এক-দশমাংশ।
বিজ্ঞানীরা জানান, যখন কোনো তারা ব্ল্যাক হোলের শক্তিশালী মহাকর্ষ বলের খুব কাছে চলে আসে, তখন সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। এই ঘটনাকে বলা হয় টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট। এ সময় তারার কিছু অংশ ব্ল্যাক হোলের দিকে পড়ে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়, আবার কিছু অংশ প্রচণ্ড বেগে বাইরে ছিটকে যায়।
তবে কেন এই ঘটনাটি এতটা দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন গবেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, ব্ল্যাক হোলের আশপাশের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ জেটের তীব্রতা হয়তো আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, এরপর ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
সিএ/এমআর


