নিউ জিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের একটি গুহায় বিজ্ঞানীরা ১০ লাখ বছরের পুরানো প্রাণীর জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার প্রাচীন বনের এক ঝলক উন্মোচন করেছে, যা মানুষের আগমনের আগে সেখানকার প্রাণীর বিলুপ্তির রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবাশ্মের মধ্যে রয়েছে ১২ প্রজাতির প্রাচীন পাখি এবং চার প্রজাতির ব্যাঙ, যার মধ্যে কিছু প্রজাতি আগের কোনো খননে দেখা যায়নি। বিশেষভাবে বিজ্ঞানীরা রোমাঞ্চিত হয়েছেন নতুন প্রজাতির এক তোতা পাখির আবিষ্কার নিয়ে, যা আধুনিক কাকাপোর প্রাচীন আত্মীয়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের দুটি স্তরের মাঝখানে এই জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্তর দুটি ভিন্ন অগ্নুৎপাতের ফল, যার প্রথমটি ঘটেছিল ১৫.৫ লাখ বছর আগে এবং দ্বিতীয়টি ১০ লাখ বছর আগে। বেশিরভাগ প্রজাতিই মানুষের আগমনেরও আগে বিলুপ্ত হয়েছিল।
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ট্রেভর ওয়ার্থি বলেন, “গুহায় পাওয়া পাখিগুলি আমাদের পূর্বে অজানা ছিল। আজ থেকে ১০ লাখ বছর আগে নিউ জিল্যান্ডে থাকা পাখি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীন বনসমূহে বৈচিত্র্যময় পাখি বসবাস করত, যারা পরবর্তী সময়ে টিকে থাকতে পারেনি।”
ক্যান্টারবেরি মিউজিয়ামের কিউরেটর পল স্কোফিল্ডের মতে, ওই সময়ে দ্বীপটির ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছিল। এর পেছনে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত প্রধান কারণ।
জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত তোতা পাখির পা কাকাপোর চেয়ে দুর্বল, তাই এটি হয়তো উড়তে পারত। এছাড়া টাকাহে পাখির পূর্বপুরুষ এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্রোঞ্জউইং কবুতরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিলুপ্ত প্রজাতির কবুতরের জীবাশ্মও খুঁজে পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলেছেন, বনভূমি ও ঝোপঝাড়ের পরিবর্তন পাখির বিবর্তনীয় বৈচিত্র্যের প্রধান চালিকাশক্তি। আগের খননে দুই কোটি থেকে এক কোটি ৬০ লাখ বছর আগের প্রাণীর অস্তিত্ব মিললেও এই আবিষ্কার এক কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০ লাখ বছরের প্রাণীর প্রথম প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


