চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)-তে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শোকর্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাদ ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যক্তিবর্গ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোকর্যালি বের হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো বাংলা ভাষাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারিনি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সকল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করতে, যেখানে সমান গুরুত্ব নিশ্চিত করা হবে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই নিজেদের ভাষা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও তিনি বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের সব দূতাবাসে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও লিপি সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে বহুভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও বাংলা ভাষাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানান।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
চবি প্রতিনিধি
সিএ/এমআর


