পৃথিবীর বুকে তৃণভোজী প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে কানাডায়। নোভা স্কোশিয়া প্রদেশে আবিষ্কৃত প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের একটি জীবাশ্মকে পৃথিবীর প্রাচীনতম তৃণভোজী ডাঙার মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। প্রাণীটির নাম টিরান্নোরোটার হেবার্টি।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেখতে সরীসৃপের মতো হলেও প্রাণীটি আসলে সরীসৃপ শ্রেণির নয়। এটি মাইক্রোসর নামের একটি বিলুপ্ত প্রাণিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এখন পর্যন্ত কেবল এর মাথার খুলিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সমগোত্রীয় প্রাণীদের শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রাণীটি লম্বায় প্রায় ১২ ইঞ্চি এবং গঠনে ছিল বর্তমান সময়ের ব্লু-টাংড স্কিংকের মতো শক্তপোক্ত।
প্রাণীটির মাথার খুলি ছিল ত্রিভুজাকৃতির এবং অত্যন্ত মজবুত। এই গঠন শক্ত লতাপাতা ও উদ্ভিদ চিবিয়ে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী চোয়ালের পেশি গঠনে সহায়ক ছিল। মুখের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের দাঁত উদ্ভিদ পিষে হজমে সহায়তা করত। গবেষকরা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এর মুখের তালুতে ডজন ডজন মোচাকৃতি দাঁতের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন।
কার্বনিফেরাস যুগে বসবাসকারী এ প্রাণীটি টেট্রাপড নামে পরিচিত চার পাওয়ালা প্রাণীগোষ্ঠীর প্রাথমিক সদস্যদের একজন। এই টেট্রাপডরাই পরবর্তীকালে উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী ও পাখিদের পূর্বপুরুষে পরিণত হয়। শুরুতে এরা মাংসাশী হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ পতঙ্গভোজী এবং পরে উদ্ভিদভোজীতে রূপ নেয়।
গবেষণার সহ-লেখক আরজান ম্যান বলেন, “এটি গুরুত্বপূর্ণ এক আবিষ্কার। কারণ, এর থেকে প্রমাণ মেলে, আজকের পৃথিবীতে আমরা প্রাণিজগতের যে ভারসাম্য দেখি, যেখানে তৃণভোজী প্রাণীদের প্রাধান্য বেশি, তা কার্বনিফেরাস যুগ থেকেই চলে আসছে।”
গবেষকদের মতে, এ আবিষ্কার মেরুদণ্ডী প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সময়কাল সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
সিএ/এমআর


