Saturday, February 21, 2026
31.5 C
Dhaka

বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন আলো ফেলল কানাডার জীবাশ্ম

পৃথিবীর বুকে তৃণভোজী প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে কানাডায়। নোভা স্কোশিয়া প্রদেশে আবিষ্কৃত প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের একটি জীবাশ্মকে পৃথিবীর প্রাচীনতম তৃণভোজী ডাঙার মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। প্রাণীটির নাম টিরান্নোরোটার হেবার্টি।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেখতে সরীসৃপের মতো হলেও প্রাণীটি আসলে সরীসৃপ শ্রেণির নয়। এটি মাইক্রোসর নামের একটি বিলুপ্ত প্রাণিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এখন পর্যন্ত কেবল এর মাথার খুলিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সমগোত্রীয় প্রাণীদের শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রাণীটি লম্বায় প্রায় ১২ ইঞ্চি এবং গঠনে ছিল বর্তমান সময়ের ব্লু-টাংড স্কিংকের মতো শক্তপোক্ত।

প্রাণীটির মাথার খুলি ছিল ত্রিভুজাকৃতির এবং অত্যন্ত মজবুত। এই গঠন শক্ত লতাপাতা ও উদ্ভিদ চিবিয়ে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী চোয়ালের পেশি গঠনে সহায়ক ছিল। মুখের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের দাঁত উদ্ভিদ পিষে হজমে সহায়তা করত। গবেষকরা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এর মুখের তালুতে ডজন ডজন মোচাকৃতি দাঁতের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন।

কার্বনিফেরাস যুগে বসবাসকারী এ প্রাণীটি টেট্রাপড নামে পরিচিত চার পাওয়ালা প্রাণীগোষ্ঠীর প্রাথমিক সদস্যদের একজন। এই টেট্রাপডরাই পরবর্তীকালে উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী ও পাখিদের পূর্বপুরুষে পরিণত হয়। শুরুতে এরা মাংসাশী হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ পতঙ্গভোজী এবং পরে উদ্ভিদভোজীতে রূপ নেয়।

গবেষণার সহ-লেখক আরজান ম্যান বলেন, “এটি গুরুত্বপূর্ণ এক আবিষ্কার। কারণ, এর থেকে প্রমাণ মেলে, আজকের পৃথিবীতে আমরা প্রাণিজগতের যে ভারসাম্য দেখি, যেখানে তৃণভোজী প্রাণীদের প্রাধান্য বেশি, তা কার্বনিফেরাস যুগ থেকেই চলে আসছে।”

গবেষকদের মতে, এ আবিষ্কার মেরুদণ্ডী প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সময়কাল সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

সিএ/এমআর

spot_img

আরও পড়ুন

সুইডিশ নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ত্যাগের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নিজেদের...

দায়িত্ব শেষে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর নোবেলজয়ী...

মুসল্লিদের ওপর নতুন বিধিনিষেধের আশঙ্কা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত...

ঘুম না আসার পেছনে রুমিনেশনের ভূমিকা

রাত গভীর হলেই অনেক মানুষের মাথার ভেতর চিন্তার ঝড়...

কুড়িগ্রামের ভাষাসৈনিক সামিউলের অমলিন পথচলা

কুড়িগ্রাম পৌরসভার সবুজ পাড়ায় বসে ভাষা আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতি...

তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবস

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে...

পূর্বধলা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা...

শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় নেতা-কর্মী আটক

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার পথে...

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তারেক রহমানের

ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী...

হঠাৎ পরিদর্শনে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এমপি মানিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ...

সোনাকানিয়ায় অতর্কিত হামলা, পিঠে ছুরিকাঘাত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে...

দখল ও দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে শ্রীপুরের ঐতিহাসিক খাল

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ছাপিলাপাড়া এলাকার প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার...

পাইকারি-খুচরায় বড় ব্যবধান, প্রশ্ন ভোক্তাদের

ইফতারের টেবিলে ফল অনেকের কাছে অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু পবিত্র...

স্মৃতিচিহ্ন আছে, নেই পর্যাপ্ত দর্শনার্থী

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার রফিকনগর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন...
spot_img

আরও পড়ুন

সুইডিশ নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ত্যাগের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সুইডেন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে...

দায়িত্ব শেষে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কী করছেন—এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। জানা...

মুসল্লিদের ওপর নতুন বিধিনিষেধের আশঙ্কা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ...

ঘুম না আসার পেছনে রুমিনেশনের ভূমিকা

রাত গভীর হলেই অনেক মানুষের মাথার ভেতর চিন্তার ঝড় শুরু হয়। বালিশে মাথা রাখার পর সারাদিনের ভুল, অপূর্ণতা, নানা ঘটনা আর আগামী দিনের অনিশ্চয়তা...
spot_img