বিশ্বজুড়ে শান্তি ও গাজার পুনর্গঠন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘শান্তি পর্ষদ’ এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্লেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ৫৬তম সম্মেলনের সময় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধন করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু শান্তি প্রচেষ্টা নয়; বরং একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক, বাণিজ্য ও ক্ষমতাকে একত্রিত করা ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাঠামো
পর্ষদের সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অন্তত ৩৫ বার উল্লেখ রয়েছে। ট্রাম্পই একমাত্র চেয়ারম্যান ও সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, বিচারক, অর্থ নিয়ন্ত্রক এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবেন। চেয়ারম্যান পদ শূন্য হতে পারে কেবল নিজের পদত্যাগ বা সর্বসম্মতিক্রমে সদস্যদের অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে—প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব।
বিলিয়ন ডলারের সদস্যপদ
পর্ষদে যোগ দিতে দেশগুলোর জন্য নগদ ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের শর্ত রাখা হয়েছে। এটি ধনী রাষ্ট্রকে সুবিধা দেয়, দরিদ্র দেশগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকেরা এটিকে ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাব হিসেবে দেখছেন।
নিজস্ব সামরিক বাহিনী
‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ) পরিচালনা করবে মার্কিন মেজর জেনারেলের অধীনে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মতো হলেও এটি কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি ছাড়াই একতরফা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমা মিত্র যেমন ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এ বোর্ড থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। রাশিয়া এখনো পর্যালোচনা করছে, চীনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। ইতালির মতো দেশগুলো ১ বিলিয়ন ডলার দিতে সমস্যায় পড়েছে, অন্যদিকে ফ্রান্স অংশগ্রহণ না করার কারণে শাস্তিমূলক ট্যারিফের হুমকি পাচ্ছে।
সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি পর্ষদ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া গঠিত হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক ক্লাবের ঝুঁকি তৈরি করছে, যেখানে বহুপাক্ষিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো নেই। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও অংশীদারিত্ব জরুরি। ট্রাম্পের উদ্যোগ যদি কাঠামো ও লক্ষ্য পরিবর্তন না করে, তবে এটি ইতিহাসে কেবল দাভোসের ‘ফটো সেশন’ হিসেবে থাকবে।
সিএ/এমই


