ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের ১০৭টি কেন্দ্রের ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১২০, যা মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ। এই আসনে বিএনপির নুরুল আমিন ৯৯টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান জয় পেয়েছেন ৮টি কেন্দ্রে, যার মধ্যে একটি পোস্টাল ভোটকেন্দ্র।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-১ আসনে মোট পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৫৭২। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০২ ভোট পড়েছে। এই ভোটে ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১১ ভোট, যা ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে বিএনপির নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ হাজার ১৫৪ ভোট। ২ হাজার ১৫৭ ভোট বেশি পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
শুধু চট্টগ্রাম-১ নয়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টিতে বিএনপির প্রার্থীরা পোস্টাল ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। প্রদত্ত পোস্টাল ভোটের ৫৯ শতাংশ পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা, আর বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন ২৮ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে, যেখানে জামায়াতের প্রার্থী ৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ভোটারদের সঙ্গে কথোপকথনে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বেশির ভাগ প্রবাসী রাউজান, মিরসরাই, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি এলাকা থেকে ভোট দিয়েছেন। এসব এলাকায় জামায়াতের প্রভাব বেশি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে জামায়াত সমর্থক প্রবাসীর সংখ্যা বেশি। এ কারণেই পোস্টাল ভোটে জামায়াত এগিয়ে গিয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) এবং চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও পোস্টাল ভোটে পিছিয়ে থাকায় ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।
প্রবাসীরা এবারে প্রথমবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের ব্যালট পাঠানো হয়। ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আনসার-ভিডিপি ও কারাবন্দীদের জন্য চালু ছিল ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি)।
পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ডাকযোগে আসা ব্যালট নির্ধারিত কক্ষে খোলা হয়। নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটের মতো পোস্টাল ভোটও গণনা করা হয়।
কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক। এখানে পোস্টাল ভোট পড়েছে ২ হাজার ৮৯টি, যার মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ৭৬৪ ভোট। বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক পেয়েছেন ৯৬৪ ভোট, যা একমাত্র কেন্দ্র যেখানে বিএনপি পোস্টাল ভোটে এগিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জয়ী হয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। পোস্টাল ভোট পড়েছে ৪ হাজার ১২২টি, যার মধ্যে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬০ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ২ হাজার ৭০ ভোট। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৬৮৪ ভোট, আর জামায়াতের আলা উদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ১ হাজার ১০৫ ভোট, বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬ ভোট। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ২০৩ ভোট, জামায়ত পেয়েছে ২ হাজার ২৩৪ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৭১৪ ভোট, এলডিপির ওমর ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৫২৪ ভোট। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে জামায়াত পেয়েছে ৯৯৫ ভোট, বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭৩২ ভোট।
নগর এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ২৩২ ভোট। জামায়াতের আবু নাছের পেয়েছেন ১ হাজার ৫৩১ ভোট। চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৭ ভোট, জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ২ হাজার ২১২ ভোট। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ৮৬৬ ভোট, জামায়াতের একেএম ফজলুল হল পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৫ ভোট। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬ ভোট, জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৯ ভোট।
সিএ/এমই


