খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক রহস্য। রাতের অন্ধকারে ভালো দেখতে গাজর খাওয়া, হাজার বছরের পুরোনো মধু খাওয়ার যোগ্যতা, সামান্য গোলমরিচ নাকে গেলে হাঁচি আসা, পপকর্ন ফুটে ওঠা বা দুধের সাদা রঙ – প্রতিটির পেছনে লুকিয়ে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
রাতে ভালো দেখার জন্য গাজর খাওয়ার গল্পটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্স তৈরি করা একটি কৌশল। তারা তাদের নতুন রাডার প্রযুক্তি গোপন রাখতে প্রচার করেছিল যে, পাইলটরা বেশি গাজর খায়, তাই রাতে শত্রুর বিমান দেখতে পারে। বাস্তবে গাজর সরাসরি রাতের দৃষ্টি বাড়ায় না, তবে এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন-এ এবং রেটিনাল তৈরি করে, যা চোখের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গোলমরিচে পাইপারিন নামে যৌগ থাকায় হাঁচি আসে। নাকের শ্লেষ্মাঝিল্লির স্নায়ুকে উত্তেজিত করে শরীর প্রতিরক্ষামূলকভাবে হাঁচি দেয়।
মধু কখনো নষ্ট হয় না, কারণ এতে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না। মৌমাছি নেকটার থেকে মধু তৈরি করার সময় গ্লুকোনিক অ্যাসিড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই হাজার বছরের পুরোনো মধুও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
পপকর্ন ফুটে ওঠে কারণ দানার ভেতরের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে চাপ তৈরি করে। ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দানা ফেটে যায় এবং ভেতরের স্টার্চ ফুলে উঠে সাদা পপকর্নে পরিণত হয়।
অ্যাভোকাডো দ্রুত বাদামি হয় পলিফেনল অক্সিডেজ এনজাইমের কারণে। লেবুর রস দিয়ে এটি কিছুটা ধীর করা যায়।
দুধ সাদা দেখায় কারণ কেসিন প্রোটিন ও কিছু নির্দিষ্ট চর্বি একসঙ্গে আলোর সব তরঙ্গ প্রতিফলিত করে। চর্বিহীন দুধে নীলচে আভা দেখা যায়।
রসুন খেলে নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হয় অ্যালাইল মিথাইল সালফাইডের কারণে, যা শরীরে দীর্ঘ সময় থাকে এবং ঘাম, নিশ্বাস ও প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে।
ক্র্যাকার বিস্কুটে ছিদ্র থাকে যাতে ওভেনে গরম হলে আটকে থাকা বাতাস বেরিয়ে গিয়ে ক্র্যাকার সমান ও মচমচে হয়।
সিএ/এমআর


