রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগরী। বিকেল গড়াতেই নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসেছে ইফতারের অস্থায়ী দোকান। বহদ্দারহাট, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাজীর দেউড়িসহ নানা এলাকায় সারি সারি টেবিলে সাজানো হয়েছে ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, মরিচা, সবজি পেঁয়াজু, জিলাপি ও হালিম।
বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার পর থেকেই ইফতার কিনতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অফিসফেরত কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দিনমজুরদের হাতে দেখা যায় ইফতারের প্যাকেট। কেউ নিজের জন্য অল্প করে কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের জন্য একসঙ্গে বিভিন্ন পদ নিচ্ছেন।
দোকান ঘুরে দেখা যায়, রান্না করা ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। বেগুনি, পেঁয়াজু ও আলুর চপ আকারভেদে প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকা। মরিচা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা করে। সবজি পেঁয়াজুর দাম ৫ থেকে ১৫ টাকা এবং জিলাপি ১০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা ব্যাংককর্মী রায়হান কবির জানান, প্রথম রোজায় বাসায় একটু বাড়তি আয়োজন থাকে। তাই ছোলা, বেগুনি ও জিলাপি কিনেছেন তিনি। দাম কিছুটা বেশি হলেও সময় বাঁচাতে বাইরে থেকেই ইফতার কিনছেন বলে জানান তিনি।
বহদ্দারহাট এলাকায় ইফতার বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, দুপুর থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। বিকেল হলেই ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। ছোলা ও বেগুনির চাহিদা বেশি থাকলেও হালিমও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
হালিমের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। প্রতি কেজি মাটন হালিম ৯৫০ টাকা, বিফ হালিম ৮০০ টাকা এবং চিকেন হালিম ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই আধা কেজি বা এক কেজি করে হালিম কিনছেন।
কাজীর দেউড়ি এলাকার বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, প্রথম রোজায় হালিমের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। দাম বাড়লেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। ক্রেতা তানজিলা আক্তার জানান, বাচ্চারা হালিম পছন্দ করে বলে তিনি আধা কেজি হালিম নিয়েছেন।
ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ভিড় তত বাড়তে থাকে। ইফতারের সুবাস, কোলাহল আর ব্যস্ততায় নগরের মোড়গুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
সিএ/এমআর


