পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের এক অনন্য সময়। এই মাস মানুষকে শুধু নিজের ইবাদতে মনোযোগী হতে শেখায় না, বরং অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও উদারতার শিক্ষা দেয়। সারাদিন রোজা রাখার পর একজন রোজাদার যখন ইফতারের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তার সামনে সামান্য খাবার তুলে দেওয়া মহান সওয়াবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলাম অন্যের ইবাদতে সহযোগিতাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। রোজাদারকে ইফতার করানোকে শুধু দান হিসেবে নয়, বরং তার ইবাদতের সওয়াবে অংশীদার হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। সামান্য খেজুর কিংবা এক গ্লাস পানির মাধ্যমেও একজন মুমিন অগণিত সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
হজরত যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো রোজা পালনকারীকে যে ব্যক্তি ইফতার করায়, সে ব্যক্তিও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমবে না।
এই হাদিস ইসলামের দানশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। এতে বোঝা যায়, ইফতার করানোর ক্ষেত্রে বড় আয়োজন বা ব্যয়বহুল ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। একটি খেজুর বা সামান্য পানীয় দিয়েও এই ফজিলত অর্জন সম্ভব।
বিশেষ করে অভাবী ও অসহায় রোজাদারদের ইফতার করানো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই যদি একে অপরের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসে, তবে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়।
রমজান তাই শুধু নিজের ইবাদতের মাস নয়; বরং অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে ইফতার করানো একজন মুমিনের জন্য বড় সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে।
সিএ/এমআর


