মহিমান্বিত মাহে রমজান শুরু হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রমজানের প্রথম দশক রহমতের। এ মাসে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করা এবং অন্তরে সেই আশাকে লালন করা ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বান্দাদের নিরাশ না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আলেমদের মতে, মুমিনের জীবনে আল্লাহর রহমতের আশা ও শাস্তির ভয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। তবে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের প্রত্যাশাই হওয়া উচিত প্রবল। কোরআন ও হাদিসে বারবার আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মুমিন ব্যক্তি শুধু পরকালের কল্যাণ নয়, দুনিয়ার জীবনেও আল্লাহর রহমত কামনা করে। কারণ উভয় জগতের কল্যাণ আল্লাহর হাতেই। কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ যদি ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে আকাশ ও জমিনের বরকত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
তবে রহমতের আশা করতে গিয়ে শাস্তির ভয় ভুলে গেলে আমলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই আশার পাশাপাশি ভয়ও রাখতে হয়। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যেমন গুনাহ, তেমনি দায়িত্ব ও আমল ছাড়া কেবল আশার ওপর নির্ভর করাও আত্মপ্রবঞ্চনা।
রমজান মাসে মানুষ নেক আমলের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়। এই আমলগুলো শুরু করার পর তা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ইবাদত শুরু করে পরে তা ছেড়ে দেওয়া হতাশার পরিচায়ক। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমল ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
রমজান আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের মাস হলেও এই রহমত কেবল এ মাসেই সীমাবদ্ধ নয়। তাই রমজানে শুরু হওয়া নেক আমলগুলো সারা জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করাই মুমিনের দায়িত্ব।
সিএ/এমআর


