রাজু ও মোহন দুই ভাই। নিজেদের খেত থেকে তরমুজ নিয়ে তারা শহরের বাজারে বিক্রি করতে যান। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খালি আছে মাত্র একটি দোকান। পরিস্থিতির কারণে দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, একই দোকানে একসঙ্গে বসেই তরমুজ বিক্রি করবেন। দুজনের কাছেই ছিল ৩০টি করে, মোট ৬০টি তরমুজ।
ব্যবসায়িক কৌশলে দুই ভাইয়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল। রাজু তুলনামূলক কম দামে তরমুজ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তিনটি তরমুজের দাম ঠিক করেন ২৫০ টাকা। এই হিসাবে তার ৩০টি তরমুজ বিক্রি হলে মোট পাওয়ার কথা ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে মোহন লাভ একটু বেশি করতে চান। তিনি দুইটি তরমুজ বিক্রি করেন ২৫০ টাকায়। ফলে তার ৩০টি তরমুজ বিক্রি হলে আয় হওয়ার কথা ৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
একই দোকানে বসে আলাদা দামে তরমুজ বিক্রি করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এ কথা ভেবেই তারা নতুন উপায় খোঁজেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, দুজনের তরমুজ মিলিয়ে একটি প্যাকেজ বানানো হবে। রাজুর তিনটি তরমুজ ও মোহনের দুইটি তরমুজ মিলিয়ে পাঁচটি তরমুজের একটি প্যাকেজ তৈরি করা হয়, যার দাম ধরা হয় ৫০০ টাকা।
এই পদ্ধতিতে সারাদিনে পাঁচটি করে মোট ১২ বার তরমুজ বিক্রি হয়। ফলে ৬০টি তরমুজ বিক্রি করে মোট আয় দাঁড়ায় ৬ হাজার টাকা। বিক্রি শেষে টাকা ভাগ করার সময় রাজু তার পাওনা ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেন। বাকি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেয়ে মোহন হিসাব মিলিয়ে দেখেন, তার তো পাওয়ার কথা ছিল ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। তাহলে বাকি ২৫০ টাকা গেল কোথায়—এই প্রশ্নই সামনে আসে।
গণনায় গরমিলের মূল জায়গাটি ছিল পাঁচটি তরমুজের প্যাকেজে। প্রথম ১০ বার বিক্রির মধ্যেই রাজুর ৩০টি তরমুজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় মোহনের বিক্রি হয় মাত্র ২০টি তরমুজ। অর্থাৎ মোহনের আরও ১০টি তরমুজ তখনো অবিক্রি থাকে। শেষ দুই দফায় ওই ১০টি তরমুজ বিক্রি করা হয় আগের মতোই পাঁচটি তরমুজ ৫০০ টাকা দরে। অথচ মোহনের নিজস্ব দামে এই ১০টি তরমুজ বিক্রি হলে দাম দাঁড়ানোর কথা ছিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার টাকা। এই হিসাবের ভুলেই মোহনের ২৫০ টাকা হারিয়ে গেছে।
সিএ/এমআর


