শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। দেশের মুসলিম জনসাধারণ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রোজা শুরু করেছেন বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে। দিনের বেলা পানাহারে বিরত থেকে মাসব্যাপী চলবে আত্মশুদ্ধির এই সাধনা।
ধর্মীয়ভাবে রমজান মাসে রোজা রাখা মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক। সংযমের এই ইবাদত শরীর ও মনকে পরিশুদ্ধ করে। রোজার শুরু থেকেই মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধারা বদলে যায়। রাতের শেষ ভাগে সাহরি খাওয়া, ফজরের নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে দিন শুরু হয়। রাতের আঁধার ফিকে হলে শয্যা গ্রহণ করা হয়।
সকালে প্রাতরাশের প্রয়োজন না থাকায় অনেকেই একটু বিলম্বে ঘুম থেকে ওঠেন। চাকুরীরা অফিস-কাছারিতে যান। স্কুল-কলেজের কর্মকাল সংক্ষিপ্ত থাকে। দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পর্দা নামানো থাকে, প্রকাশ্যে পানাহার বা ধূমপান করা কম চোখে পড়ে।
রোজাদাররা পানাহারে বিরত থাকাই নয়, জীবনাচরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। বাহুল্য কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা, রাগ-ক্রোধ দমন, বিবাদ-বিসংবাদ এড়িয়ে চলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখা—এসবের মধ্য দিয়ে তারা স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের জন্য সচেষ্ট থাকেন।
দিনের মধ্যভাগে বদলে যায় দৃশ্যপট। খাবারের দোকানগুলো, পাড়া-মহল্লার মোড়া ও ফুটপাতে বসে যায় ইফতারির পসরা। মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, ঘুগনি, খেজুর, সালাদ, মাংস ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন পদ সাজানো থাকে। এবার আবহাওয়া কিছুটা গরম থাকায় রোজাদারেরা শরবতের গ্লাসে চুমুক দিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন।
বেলা গড়ানোর পর ইফতারির পসরার সামনে ক্রেতাদের সমাগম বাড়ে। বিকেলের দিকে রোজাদাররা হাতের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে প্রিয়জনের সঙ্গে একত্রে ইফতার করেন। এ কারণে গণপরিবহন ও মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়।
বাসাবাড়িতেও ইফতারি তৈরি নিয়ে গৃহিণীদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয় দুপুরের পর থেকে। সন্ধ্যার আগে রান্না শেষ হয়ে গেলে মাগরিবের আজানের অপেক্ষায় সবাই টেবিলে বসেন। আজানের ধ্বনি কানে পড়লেই রোজাদাররা পরম করুণাময় আল্লাহর রহমত কামনা করে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন এবং রোজা সম্পন্ন করেন।
পবিত্র রমজান মাসে জীবনযাত্রা ও পরিবেশের দৃশ্যপটে যে পরিবর্তন ঘটে, তা রমজানের সংযম, শিক্ষা ও নীতিনৈতিকতার সঙ্গে জড়িত। বাজারে মূল্য পরিবর্তন না হলেও সংযম ও নৈতিকতার শিক্ষার গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
সিএ/এমই


