বসন্তের আগমনী হাওয়ায় রঙিন হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা। পাতাহীন শাখা-প্রশাখার মাথায় ফুটে থাকা কমলা-হলুদ রঙের উদাল ফুল এখন পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের সৈয়দ মুজতবা আলী সড়ক ও মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
কয়েক দিন আগে শহরের প্রবীণ সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ আবদুল মোতালিব একটি অচেনা ফুল দেখে এর পরিচয় জানতে চান। পরে খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানান, সেটি উদাল ফুল। এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এই ফুলের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।
মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় একটি বাসার সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বড় উদালগাছ এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। দালানকোঠা ছাড়িয়ে অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়া গাছটির পাতাহীন ডালে ঝোপের মতো ধরে আছে ফুলমঞ্জরি। ফাগুনের রোদে কমলা-হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। বসন্তের বাতাসে দুলছে ফুল, যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।
গাছটিতে উড়ে এসে বসছে কাঠশালিক, শালিক ও বুলবুলি। ডাল থেকে ডালে ছুটে বেড়াচ্ছে তারা। ওপর আকাশে চক্কর দিচ্ছে কয়েকটি চিল। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের মাঝেও এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে।
শহর ঘুরে অন্তত পাঁচ-ছয়টি স্থানে উদালগাছে ফুল ফুটতে দেখা গেছে। সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কে মা ও শিশু মাতৃমঙ্গল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে সড়কের উত্তর দিকে একটি ছোট গাছেও পাতাহীন ডালের মাথায় ঘন হয়ে ফুটেছে ফুল। সৈয়ারপুর এলাকার মাঝেরহাটি সড়কের প্রায় উত্তর প্রান্তে একটি বাড়ির ভেতরে বড় উদালগাছটি এখন হলুদ-সোনালি ফুলে ছেয়ে আছে। নিচে সড়কের ওপর ঝরে পড়ছে পাপড়ি। শান্তিবাগ ওয়াকওয়েতেও একটি ছোট উদালগাছে ফুল ফুটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরও কিছুদিন পর ফুল ঝরে গিয়ে গাছে ফল ধরবে। পরে সেই ফল ফেটে ফুলের মতো আকার নেবে এবং লাল রঙে রাঙিয়ে তুলবে গাছটিকে। একসময় পাহাড়ি এলাকায় সহজেই উদালগাছ দেখা যেত। তবে বন উজাড় ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে এখন এটি অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উদালকে সংরক্ষিত গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, অতীতে উদালগাছের বাকল থেকে আঁশ সংগ্রহ করে রশি তৈরি করা হতো, যা গেরস্থালির কাজে ব্যবহৃত হতো। সময়ের পরিবর্তনে সেই ব্যবহার কমে গেলেও প্রতিকূলতার মধ্যেও শহর ও গ্রামে টিকে আছে কিছু উদালগাছ। বসন্ত এলে তারা আবারও ফুল ও ফলের রঙে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে।
সিএ/এমই


