বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা আর ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। কাগজে-কলমে স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও বাস্তবে মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অধিকার চাইতে গেলেই মানুষকে ফিরতে হচ্ছে লাশ হয়ে—এমন বাস্তবতার কথাই উঠে এসেছে এই বিশ্লেষণে।
এই পরিস্থিতিকে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিপর্যয় নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ফল হিসেবেই আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগে নিপীড়ন ছিল নীরব, এখন তা প্রকাশ্য ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, ক্ষমতায় বসার পর সেই আশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ক্ষমতার চেয়ার মানুষকে বদলায় না, বরং মানুষকে গ্রাস করে—এই বাস্তবতার কথাও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
প্রতিবাদ ও বিচার চাওয়ার জবাবে গুলি, লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বারবার অস্বীকারের ভাষায় নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা পাওয়ার আগে আদর্শ থাকলেও ক্ষমতায় গেলে দায়িত্ব হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
লেখায় বলা হয়েছে, নাগরিক এখন আর মানুষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, বরং সে সংখ্যা, বোঝা কিংবা টার্গেটে পরিণত হয়েছে। সত্য প্রকাশ করাই অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সত্য বলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থনীতি বা রাজনীতি নয়, বরং নৈতিকতার সংকট। রাষ্ট্র নাগরিককে শত্রু হিসেবে দেখছে, আর নাগরিক রাষ্ট্রকে ভয় পাচ্ছে—এই সম্পর্ক কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচায়ক হতে পারে না।
শেষাংশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, গুলি চলার সময় রাষ্ট্র কাদের পক্ষে ছিল এবং রক্তাক্ত মানুষের পাশে কে দাঁড়িয়েছিল। এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ কেবল নামমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই থেকে যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


