ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় স্ত্রী মীরা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মোস্তফা কামালকে প্রায় ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা সদরের আনসার রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ ও র্যাব-১–এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মোস্তফা কামালকে আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বয়স ৪২ বছর। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার উজান মল্লিকপুর গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মীরা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই স্বামী মোস্তফা কামাল আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁর সম্পৃক্ততা উঠে আসে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মোস্তফা কামাল ও তাঁর সহযোগী মজিদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে মীরা আক্তার ফরিদপুর শহর থেকে বাসে করে মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ওই বাসে পাশের আসনে বসা যাত্রী মোস্তফা কামালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁরা গোপনে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে মীরা সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীকে না জানিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি রওনা হলে মোস্তফা তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। পরে সহযোগী মজিদ মোল্লার সহায়তায় তাঁকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মধুখালী থানার পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মধুখালী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মাহিদুল হক ২০১৮ সালের ৩১ মে মোস্তফা কামাল ও মজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাইজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব গ্রেপ্তার আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সিএ/এমই


