ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমান ও নৌ সক্ষমতা শক্তিশালী করার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এমন সামরিক তৎপরতার মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরমাণু আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখনও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি আছে’। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও সম্ভাব্য উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, চলতি মাসের শুরুর প্রথম দফা বৈঠকের তুলনায় মঙ্গলবারের আলোচনা বেশি ‘গঠনমূলক’ ছিল। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের আশপাশে ভারী সামরিক শক্তি জড়ো করছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
গত জানুয়ারির শেষদিকে আরব সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এক ডজন এফ-১৫ ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ ড্রোন এবং কয়েকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে মিশরের সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-ফোরসি ট্রিটন নজরদারি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। এর আগে ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পসেইডন, ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি ও অন্যান্য গোয়েন্দা বিমানও মোতায়েনের তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়া অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথাও জানা গেছে, যা সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তারা কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ বন্ধ রাখবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রফতানি নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী ঘিরে অতীতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে তেহরান পুরো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিলেও বর্তমানে সীমিত সময়ের মহড়ার কথাই জানানো হয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস, বিবিসি
সিএ/এসএ


