বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঝুঁকি যখন দিন দিন বাড়ছে, ঠিক তখনই এক যুগান্তকারী সাফল্যের খবর দিয়েছে বিজ্ঞানীরা। চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করে ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ডিভাইস-ইন্ডিপেনডেন্ট কোয়ান্টাম কী ডিস্ট্রিবিউশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কে দীর্ঘ দূরত্বে কোয়ান্টাম তথ্য নিরাপদভাবে আদান–প্রদান সম্ভব হলো।
গবেষকদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতের এমন একটি ইন্টারনেট ব্যবস্থার পথ খুলে দিল, যা তাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ হ্যাকিং–মুক্ত। সাধারণ ইন্টারনেটে তথ্য এনক্রিপশন ভাঙা সম্ভব হলেও কোয়ান্টাম ইন্টারনেট পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির ওপর কাজ করে। এখানে তথ্য আদান–প্রদান হয় একক ফোটন বা কণার মাধ্যমে। মাঝপথে কেউ তথ্য আড়ি পাততে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কোয়ান্টাম কণার অবস্থা বদলে যায় এবং প্রেরক–প্রাপক তা শনাক্ত করতে পারেন।
এই গবেষণার মূল শক্তি এমডিআই-কিউকেডি পদ্ধতি। এতে তৃতীয় একটি ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য যাচাই হলেও সেই ডিভাইস কোনোভাবেই গোপন কী জানতে পারে না। ফলে নিরাপত্তা থাকে অক্ষুণ্ন। গবেষণায় রুবিডিয়াম পরমাণু ও উন্নত একক-ফোটন ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষায় ১১ কিলোমিটারে পূর্ণাঙ্গ নিরাপদ কী তৈরি হয়েছে এবং ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্থিতিশীল সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক প্যান জিয়ানওয়ে বলেন, এটি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক কোয়ান্টাম নেটওয়ার্ক গঠনের একটি অপরিহার্য ভিত্তি। তাঁর মতে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী কোয়ান্টাম ইন্টারনেট দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। ১০০ কিলোমিটারের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, কোয়ান্টাম ইন্টারনেট আর কেবল কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং বাস্তবতার দোরগোড়ায়।
সিএ/এমআর


