মানুষের হৃদয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের ভালোবাসা একসঙ্গে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে না। দুনিয়ার চিন্তা যত বাড়ে, আখিরাতের ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হয়ে যায়। তাবেঈ সাধক হজরত মালিক ইবনু দিনার রহ. তার একটি গভীর উক্তির মাধ্যমে এই বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন—
‘দুনিয়ার জন্য যত চিন্তা করবে, অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা তত কমে যাবে। আর পরকালের জন্য যে পরিমাণ চিন্তা করবে, অন্তর থেকে দুনিয়ার চিন্তাই সে পরিমাণ দূর হয়ে যাবে।’
এই বাণী কেবল নসিহত নয়, বরং ইমানের ভারসাম্য রক্ষার একটি মৌলিক দিকনির্দেশনা। আধুনিক ভোগবাদী সমাজে দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে আখিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।
কুরআনে দুনিয়ার জীবনকে ক্ষণস্থায়ী বলে উল্লেখ করে আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার মোহে পড়ে আখিরাত ভুলে না যেতে সতর্ক করেছেন এবং প্রকৃত সফলতা আখিরাতমুখী জীবনে নিহিত বলে স্পষ্ট করেছেন।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. দুনিয়ার ভালোবাসাকে সব পাপের মূল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যার লক্ষ্য আখিরাত, আল্লাহ তার জীবনকে শৃঙ্খলিত করে দেন এবং দুনিয়াও তার কাছে সহজ হয়ে আসে।
হজরত মালিক ইবনু দিনার রহ.-এর জীবন ছিল দুনিয়ার চাকচিক্য ত্যাগ করে আখিরাতের প্রস্তুতিতে নিবেদিত। তার বাণীর তাৎপর্য হলো—হৃদয় একটিই, সেখানে যদি দুনিয়ার দুশ্চিন্তা প্রাধান্য পায়, তবে আখিরাতের প্রস্তুতির জায়গা সংকুচিত হয়। আর আখিরাতের ভয় ও আশা প্রবল হলে দুনিয়ার অযথা উদ্বেগ আপনাআপনি দূরে সরে যায়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, আখিরাতমুখী থাকতে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ আদায়, মৃত্যুচিন্তা, দান-সদকা এবং সৎ সঙ্গ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিজিক আল্লাহর হাতে—এই বিশ্বাস দৃঢ় হলে দুনিয়ার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব।
দুনিয়া মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এটি পরীক্ষার স্থান। তাই দুনিয়াকে হাতে রাখা যেতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে স্থান দেওয়া উচিত আখিরাতকে—এমন শিক্ষাই দেয় এই বাণী।
সিএ/এমআর


