রমজান মাস ইবাদতের বিশেষ সময়। এই মাসে দিনের রোজার পাশাপাশি রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবিহ নামাজ। এশার নামাজের পর আদায় করা এই নামাজ মুসলিম সমাজে গভীর গুরুত্ব বহন করে। তবে তারাবিহ নামাজ কত রাকাত আদায় করা উচিত—এই প্রশ্নটি প্রতিবছরই আলোচনায় আসে।
ফিকহ ও হাদিসের আলোকে অধিকাংশ আলেমের মত হলো, তারাবিহ নামাজ বিশ রাকাত। ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বিশ রাকাত তারাবিহর ব্যাপারে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কিয়ামে রমজান তথা তারাবিহ নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং এটি স্বয়ং হজরত নবী কারিম (সা.) চালু করেছেন।
হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে প্রথমবারের মতো সাহাবিদের এক ইমামের পেছনে জামাতে তারাবিহ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি হজরত উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-কে ইমাম নিযুক্ত করেন এবং সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পেছনে বিশ রাকাত তারাবিহ আদায় করেন।
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, হজরত আলী (রা.)-ও সাহাবি ও তাবেয়িদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবিহ পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এসব আমল সাহাবায়ে কেরামের ইজমা হিসেবে গণ্য হয়।
চার মাজহাবের ইমামদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম শাফেঈ (রহ.) ও ইমাম আহমাদ (রহ.) বিশ রাকাত তারাবিহর মত গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালেক (রহ.)-এর একটি মত অনুযায়ী ছত্রিশ রাকাতের কথা বলা হলেও তাঁর প্রসিদ্ধ মত বিশ রাকাতই।
আলেমদের মতে, তারাবিহ নামাজ ধীরে-সুস্থে, মনোযোগ ও খুশু-খুজুর সঙ্গে আদায় করাই মূল উদ্দেশ্য। জামাতে আদায় করা উত্তম এবং এটি রমজানের রাতকে আলোকিত করে।
সিএ/এমআর


