পাহাড়, নদী, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ক্রমেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও পাহাড়ি সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই জেলা এখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট-বড় ঝরনাগুলোকে কেন্দ্র করে পর্যটন অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হলে খাগড়াছড়িতে পর্যটক আকর্ষণ বহুগুণে বাড়বে। দুর্গম এলাকার ঝরনাগুলোতে উন্নয়ন হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে খাগড়াছড়িতে রিছাং, সিজক, তৈদুছড়া, শিলাছড়ি, তুয়ারি মাইরাংসহ অন্তত ১০টি ছোট-বড় ঝরনা রয়েছে। প্রতিটির উচ্চতা গড়ে ৮০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে অনেক ঝরনায় এখনও পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত।
খাগড়াছড়ির সবচেয়ে জনপ্রিয় ঝরনা রিছাং। প্রতি বছর উৎসব ও ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় করেন। মারমা ভাষায় ‘রি’ অর্থ পানি এবং ‘ছাং’ অর্থ উঁচু স্থান থেকে গড়িয়ে পড়া। প্রায় ৩৫ মিটার উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা এই ঝরনার দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
সম্প্রতি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে তৈলাফাং ঝরনা। মাটিরাঙ্গা উপজেলার দুর্গম কাতালমনি পাড়ায় অবস্থিত এই ঝরনাটি প্রায় অর্ধশত ফুট উঁচু। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ইতোমধ্যে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা এখানে যেতে শুরু করেছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন সম্ভাবনা যাচাই করে ঝরনাগুলোতে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিএ/এমআর


