জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা নৈতিক ও আমানতের অঙ্গীকার। সে কারণেই শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
এবারের শপথ অনুষ্ঠানের সূচনায় তিলাওয়াত করা হয়েছে পবিত্র কুরআনের সুরা নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত। আয়াতে আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার পূরণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শপথ ভঙ্গ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এই আয়াতে বলা হয়েছে—
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
‘তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকারে আবদ্ধ হও, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।’ (সুরা নাহল: আয়াত ৯১)
আয়াতটির তাৎপর্যে আল্লাহ তাআলা মানুষের পারস্পরিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শপথের মাধ্যমে আল্লাহকে সাক্ষী বানানো হলে তা ভঙ্গ করা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; বরং ধর্মীয় দায়িত্বভঙ্গ হিসেবেও বিবেচিত।
ব্যক্তিগত কসমের ক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে, কেউ যদি শপথ করার পর এর চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পায়, তবে সে উত্তম কাজটি করবে এবং শপথের কাফফারা আদায় করবে। এভাবে ইসলাম কল্যাণকর কাজকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেয়।
শপথ অনুষ্ঠানে এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার শুধু সাংবিধানিক নয়; বরং নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও জনআস্থা বজায় রাখাই শপথের মূল শিক্ষা।
সিএ/এমআর


