যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়ে এটি চলবে আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত। পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চার বছর পূর্তির ঠিক আগমুহূর্তে এ বৈঠককে কেন্দ্র করে বাড়তি নজর পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাতে রূপ নেয়। এর চার বছর পূর্তি ঘনিয়ে আসার মধ্যেই আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে। জেনেভার এই বৈঠককে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হলেও বড় কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
বৈঠকের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে দুই দেশের তীব্র হামলা–পাল্টা হামলা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য বলছে, রাতভর মোট ৩৯৬টি ড্রোন এবং ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে ৩৬৭টি ড্রোন এবং ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত হয়। হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন, পাশাপাশি আবাসিক এলাকা, শিল্প কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওডেসা ও দেনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে।
অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও রাতভর রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইলস্কি তেল শোধনাগার, যেখানে একটি সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই রাতে রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এলাকাতেও একাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে এক শিশু আহত হয়েছে। ক্রিমিয়ার রাজধানী সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানান, সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম হামলাগুলোর একটি ছিল এই আক্রমণ এবং প্রায় দুই ডজন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।
রাশিয়ার দাবি, তারা রাতভর মোট ১৫১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনার আগমুহূর্তে উভয় পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
সিএ/এসএ


