জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই বিচার কার্যক্রম শুরু করে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজ আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার সূচনা বক্তব্য লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়নি। পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এম এ রাজ্জাক। তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়েই মূলত মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামিই পলাতক।
সাক্ষী এম এ রাজ্জাক বলেন, তিনি ‘মেডলার গ্রুপ’-এ চাকরি করতেন এবং বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর ছেলে মো. আসিফ ইকবাল কোটা আন্দোলনে নিহত হন। এম এ রাজ্জাক জানান, তাঁর ছেলে মনিপুর স্কুলে পড়াশোনা করত এবং দারাজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করত। ওই দিন শুক্রবার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা আন্দোলনে অংশ নেয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আজকের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করার আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন বুধবার ধার্য করেন।
সিএ/এমই


