লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের পুত্রসন্তানকে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার এ রুল দেন।
রুলে সংবিধানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকারী অনুচ্ছেদগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালার ৬ক বিধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিধানটির প্রেক্ষাপট
রিট আবেদনে বলা হয়, আইনের আলোকে ২০০৯ সালে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে এতে ৬ক বিধি সংযোজন করা হয়।
ওই বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রারের মৃত্যু বা অবসরজনিত কারণে লাইসেন্সের কার্যকারিতা শেষ হলে, নতুন লাইসেন্স প্রদানের জন্য প্রার্থী বাছাই ও লাইসেন্স মঞ্জুরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের পুত্রসন্তানকে বিধি ৮–এর অধীন যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রিট ও শুনানি
৬ক বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান চলতি মাসে রিট আবেদন করেন। আদালতে তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল করিম।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রারের ছেলেকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান কার্যত একটি কোটা ব্যবস্থা, যা বৈষম্যমূলক। সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সমান সুযোগের নিশ্চয়তা রয়েছে। ৬ক বিধির মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক নিশ্চয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেই রিটটি করা হয়েছে।
হাইকোর্ট রুল জারি করে আইন সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সিএ/এমই


