মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের কাছে দ্বীনের বাণী সহজ ও হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছে দিতে উপমার আশ্রয় নিতেন। প্রাণী, গাছ, ফল, নদী কিংবা আগুন—চারপাশের পরিচিত বিষয়কে উপমা হিসেবে ব্যবহার করে তিনি জটিল সত্যকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এসব উপমার মধ্য দিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এক হাদিসে তিনি মানুষকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া পতঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষ অবিবেচনায় ধ্বংসের পথে ছুটে যায়, আর নবীর দায়িত্ব হলো তাকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা। একইভাবে মুমিনের ইমানকে তিনি খুঁটিতে বাঁধা ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা ঘুরে ফিরে শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গায় ফিরে আসে।
কোরআন তিলাওয়াতকারী মুমিনকে তিনি সুগন্ধি লেবুজাতীয় ফলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার স্বাদ ও ঘ্রাণ দুটোই উৎকৃষ্ট। আর যে কোরআন পাঠ করে না, তার উপমা দিয়েছেন খেজুরের সঙ্গে—স্বাদ মিষ্টি হলেও ঘ্রাণহীন। এসব উপমার মাধ্যমে তিনি মানুষের আমল ও চরিত্রের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন।
নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে নবীজি (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে এমন একটি নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে দিনে পাঁচবার গোসল করলে শরীরে কোনো ময়লা থাকে না। তেমনি নিয়মিত নামাজ মানুষের গোনাহ মুছে দেয়। দলছুট ভেড়ার উপমার মাধ্যমে তিনি জামাতের গুরুত্বও স্পষ্ট করেছেন।
মানুষের সম্ভাবনা বোঝাতে তিনি বলেছেন, মানুষ স্বর্ণ ও রুপার খনির মতো। জাহেলি যুগে যারা উত্তম ছিল, সঠিক জ্ঞান অর্জন করলে তারা ইসলামের আলোয় আরও উৎকৃষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এভাবে নবীজির উপমাগুলো মানুষকে আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও সঠিক পথে চলার প্রেরণা দেয়।
সিএ/এমআর


