মাদারীপুর–১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাকে লাঠি হাতে জনসমক্ষে কয়েকজনকে শাসন ও মারধর করতে দেখা যায়—এমন দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক নয়; এগুলো ২০২৪ সালের ঘটনা।
ভিডিওগুলোর একটিতে দেখা যায়, মধ্য বয়সী এক ব্যক্তিকে কাদাপানিতে শুইয়ে রেখে লাঠি হাতে শাসাচ্ছেন হানজালা। তিনি বলছেন, ‘মাথা নিচু কর। মুখে পানি ল। আর জীবনে গাঞ্জা খাবি? তোর কত বড় সাহস, গাঞ্জা কিনতে আসছিস। তোর কলিজা কত বড় হইছে, গাঞ্জা কিনতে আসছিস। তোর কলিজাটা একবারে বাইর কইরা ফেলমু।’ পরে ওই ব্যক্তিকে কান ধরিয়ে আর মাদক কেনাবেচা না করার প্রতিশ্রুতি নিতে দেখা যায়।
আরেকটি ভিডিওতে তিন যুবককে মাথা নিচু করে দাঁড় করিয়ে লাঠি দিয়ে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে বলা হয়, ভবিষ্যতে এলাকায় কেউ মাদক কিনতে গেলে তাকে উলঙ্গ করে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভিডিওগুলো ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একটি পোস্টে ক্যাপশন দেওয়া হয়, ‘খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন হানজালা। এমন নেতাই তো সমাজে প্রয়োজন, আলহামদুলিল্লাহ।’
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। রিকশা প্রতীকে তিনি পান ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।
যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিও দুটির ঘটনা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এবং এগুলো ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২২ আগস্ট শিবচরে মাদক কিনতে আসা চার যুবককে জুতাপেটা, লাঠিপেটা ও কান ধরে উঠবস করান স্থানীয় দুই পীরজাদা মাওলানা মো. মোহসেন ও মাওলানা হানজালা।
নির্বাচনের পর ভিডিওগুলো নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে রোববার (৭ ডিসেম্বর) সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভিডিওগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের সময়ের। তাঁর দাবি, সে সময় দেশে প্রশাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, তাই মাদক প্রতিরোধে তাঁরা ‘বাধ্য হয়ে’ এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ভিডিও প্রচার নিরুৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো প্রশাসন ছিল না, আপনাদের ভালোবাসায়, দোয়ায় আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এখন আমি নির্বাচিত হয়ে এসেছি। প্রশাসন ও আমি একত্র হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। সেই সময় আইনের শাসন ছিল না। তাই শিবচরকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ঘটনার শাসন ও বিচার করেছিলাম। পরে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হয়, তখন আমি নিজে কোনো বিচার বা শাসন করিনি। এখন এমপি হয়েছি, দেশের আইনগত বিষয় মেনেই প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।’
পুরোনো ভিডিওগুলো নিয়ে নিজেও ‘বিব্রত’ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণও ভুল বুঝতেছে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুরের শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো ভিডিও তাঁদের চোখে পড়েনি এবং এ নিয়ে কেউ অভিযোগও করেনি।
সিএ/এমই


