বরিশালে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দুই শ্রমিকনেতাকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। দিনভর কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের পর রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, ট্রেড ইউনিয়ন করায় শ্রমিকনেতা ও ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এবং সহসাধারণ সম্পাদক খুকু মণিকে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাঁরা এ সিদ্ধান্তকে অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, রাষ্ট্র যেখানে শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার দিয়েছে, সেখানে মালিকপক্ষের এমন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদের কাজে ফিরিয়ে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ছাঁটাই হওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে আমরা মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। আমাদের আসতে দেরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আমাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর জের ধরে আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের চাকরি ফেরত চাই। যদি না দেয়, তবে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করার জন্য সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে ছাঁটাই ও নিপীড়ন চালাচ্ছে। সর্বশেষ ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে দুজন শ্রমিকনেতাকে চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং অমানবিক। আমাদের দাবি, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত দুই শ্রমিকনেতাকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
মহাসড়ক অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সিএ/এমই


