ইসলাম মানুষের পারস্পরিক লেনদেন ও আর্থিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। কারো অধিকার আদায়, ঋণ পরিশোধ এবং দেনা-পাওনার ক্ষেত্রে ন্যায় ও উদারতার নির্দেশনা ইসলামের মৌলিক নীতি। ঋণ গ্রহণ যেমন দায়িত্ব, তেমনি তা সুন্দরভাবে পরিশোধ করা একজন মুমিনের চরিত্রের অংশ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের উদাহরণে স্পষ্ট হয়, পাওনাদারের অধিকার রক্ষা করতে হবে। হাদিসে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর কাছে তার পাওনা আদায়ের জন্য কড়া তাগাদা দিলেন। সাহাবারা তাকে শান্ত করতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। পাওনাদারের কথা বলার অধিকার আছে, তাকে একটি উট কিনে দাও। তার চেয়ে বয়সে বড় উট ছাড়া না পেলেও সেটি কিনে দিতে হবে। কারণ উত্তম লোক সেই, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে। (বুখারি, হাদিস: ২৩৯০)
এই হাদিসে দেখা যায়, পাওনাদারের দাবি কঠোর হলেও তাকে অন্যায়ভাবে দমন করা যাবে না। ঋণ পরিশোধ শুধু দায়মুক্তির বিষয় নয়; এটি চরিত্রের উৎকর্ষ ও নৈতিকতার পরিচায়ক। উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ সমাজে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
হাদিসের শিক্ষা:
১. পাওনাদারের তার পাওনা দাবি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
২. ঋণ পরিশোধে অবহেলা করা নিন্দনীয়।
৩. সামর্থ্য থাকলে ঋণ সুন্দরভাবে পরিশোধ করা উচিত।
৪. কারো অধিকার আদায়ে তাকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
৫. সততা ও উদারতা সমাজে আস্থা ও সুসম্পর্ক তৈরি করে।
৬. প্রকৃত উত্তম ব্যক্তি সে, যে মানুষের হক আদায়ে যত্নবান।
সিএ/এমআর


