২০০০ সালের মে মাসে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ইনবক্সে হঠাৎ একটি ই–মেইল আসতে শুরু করে, যার বিষয় ছিল ইংরেজিতে লেখা আইলাভইউ। কৌতূহলবশত অনেকেই ই–মেইলটি খুলে দেখেন। ভেতরে লেখা ছিল একটি অনুরোধ—দয়া করে পাঠানো এই প্রেমপত্রটি পড়ুন। সঙ্গে যুক্ত ছিল LOVE-LETTER-FOR-YOU.TXT নামের একটি ফাইল।
ডিজিটাল প্রেমপত্রের সেই আনন্দ খুব দ্রুতই ভয়াবহ আতঙ্কে রূপ নেয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আই লাভ ইউ নামের এই কম্পিউটার ওয়ার্ম বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ কম্পিউটার আক্রান্ত করে। সে সময় ইন্টারনেট সংযুক্ত বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ কম্পিউটারই এই ভাইরাসের কবলে পড়ে।
২০০০ সালের ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক আর্কিট্যাক্ট হোসে ডোমিঙ্গুয়েজ প্রথম এই ই–মেইলটি পান। মেইলটি পরিচিত এক ভেন্ডরের কাছ থেকে আসায় তিনি সন্দেহ করেননি। পরে জানা যায়, সেই ভেন্ডর নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
এই ওয়ার্মটি চালু হলেই ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট করে দিত এবং কন্ট্যাক্ট লিস্টে থাকা সবার কাছে নিজেকে পাঠিয়ে দিত। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, মার্কিন কংগ্রেস ও মার্কিন বিমান বাহিনীর কম্পিউটারও এই আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। এতে বিশ্বজুড়ে কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভাইরাসটি মূলত উইন্ডোজ সিস্টেমের একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছিল। সে সময় ফাইলের এক্সটেনশন লুকিয়ে রাখার কারণে ব্যবহারকারীরা এটিকে সাধারণ টেক্সট ফাইল ভেবেই খুলে ফেলতেন। পরে জানা যায়, এর স্রষ্টা ছিলেন ফিলিপাইনের ২৪ বছর বয়সী এক ছাত্র ওনেল ডি গুজমান। তিনি দাবি করেন, বিনা মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
প্রায় ২৬ বছর পরও ই–মেইল সাইবার অপরাধীদের প্রধান মাধ্যম হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আই লাভ ইউ ভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে—ইন্টারনেটে কোনো কিছুই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
সিএ/এমআর


