ক্যারিবীয় সাগরে আরও একটি নৌযানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, যাতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে মাদকবিরোধী এসব অভিযানে অন্তত ১৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন বাহিনী একটি ‘প্রাণঘাতী ও গতিশীল অভিযান’ পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। হামলায় নিহতদের ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ বলেও বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সাউদার্ন কমান্ড সর্বশেষ হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় নৌযানটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার পর নৌযানটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন—এ ধরনের আক্রমণ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে বিচারবহির্ভূত হত্যার শামিল। তাদের মতে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চল ও ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯টি নৌযানে ৩৭টি হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহের শুরুর দিকে হওয়া আরেক হামলায় দুজন নিহত হয়েছিলেন।
সিএ/এসএ


