প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা স্পষ্টভাবে জুলাই মাসে জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। এই রায় প্রমাণ করে যে, দেশের জনগণ আর পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চান না। তারা পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার চান।
আজ (শনিবার) সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক বিফ্রিংয়ে আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জনগণের এই স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
গণভোটের আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি জাতীয় রূপান্তর কখনো একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে টেকসই হবে না। জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকেই। তাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াই গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি।’
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি তাদের মত প্রকাশ করেছেন। জনগণ আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সংস্কারের পক্ষে জনরায় এসেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায় কেবল সংখ্যার বিচারে দেখা যায় না। এটি সেই জনগণের অঙ্গীকার, যারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নই এই রায়ের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।’
‘প্রায় ১৬ বছর ধরে যে বীরের রক্তস্রোত, মাতার অশ্রুধারা, নির্যাতিতের হাহাকার; তা যেন পুনরায় না ঘটে, সেই লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের জনমত এই গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায় গণভোটে পুনরায় স্পষ্ট হয়েছে। আমাদের এই বিষয়গুলো ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে যে সুস্পষ্ট গণরায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলসমূহের। ক্ষমতাসীন দল, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রতিনিধিত্বকারী দলসমূহ এবং সংসদের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি আহ্বান, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
সিএ/এমই


