সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে দীর্ঘ ৩০ বছর পর জয় পেয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে এ আসনে দলটি বিজয়ী হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তাঁর বিজয় নিশ্চিত হয়।
যোগাযোগ করলে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। সাধারণ ভোটাররাও পাশে ছিলেন। সব মিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেছি। এখন ধীরে ধীরে প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করব।’
এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে তিনি এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দলীয়ভাবে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, তারা আসনটি দখলে নিতে পারবে।
তবে চূড়ান্ত হিসাবে এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট। আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৮০৮।
ইতিহাস বলছে, সিলেট-৬ আসনে ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শরফ উদ্দিন খসরু বিএনপির মনোনয়নে জয় পান। আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এখান থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের পেছনে ফেলে মনোনয়ন পান এমরান আহমদ চৌধুরী।
৫৮ বছর বয়সী এমরান আহমদ পেশায় আইনজীবী। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবেও পরিচিত।
সিএ/এমই


