জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয় কেবল সংখ্যাগত অর্জন নয়। এটি সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি পরিমাপযোগ্য সংকেত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক হতাশার মধ্যে জমে থাকা প্রত্যাশার প্রতিফলন এই রায়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুদ্ধ-উত্তর অর্থনীতি পুনর্গঠনে শ্রম রপ্তানি ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি গড়ে দেন। বর্তমান রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক থেকে আসে এবং প্রবাসী আয়ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপি এবার একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। পরিকল্পনায় বৈষম্য হ্রাস, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী কর-জাতীয় উৎপাদন অনুপাত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উন্নীত করা হবে। নতুন কর আরোপ ছাড়াই প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপচয় কমিয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীদের জন্য ঋণ মওকুফ, ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা, সুদের হার যৌক্তিককরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বিএনপির পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যুবসমাজ ও নারীর অংশগ্রহণ, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত। নারীর উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহস্থালি আয় ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উল্লেখ করেছেন, এই বিজয় কেবল সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক চুক্তির সূচনা, যেখানে রাষ্ট্র ও নাগরিক একসঙ্গে উন্নয়ন, ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে অগ্রসর হবে। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিক সূচকে উন্নত হবে না, বরং শক্তিশালী, টেকসই ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
সিএ/এমআর


