ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেবল একটি আসনে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী ঝিনাইদহ–১ আসনে বিএনপি নেতা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জয়ী হলেও বাকি তিনটি আসনে জয় নিশ্চিত করে জামায়াতে ইসলামী।
ঝিনাইদহ–২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বক্কর নির্বাচিত হয়েছেন। ঝিনাইদহ–৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন মো. মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ–৪ আসনে জয় পেয়েছেন মাওলানা আবু তালিব। এই ফলাফল জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয় নেতারা জানান, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহের চারটি আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে শুধু ঝিনাইদহ–১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এবার তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর জয় জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ঝিনাইদহ–১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট।
ঝিনাইদহ–২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বক্কর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।
ঝিনাইদহ–৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. মতিয়ার রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট অর্জন করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান পান ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট।
ঝিনাইদহ–৪ আসনে জামায়াতের মাওলানা আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট এবং বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানিয়েছেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
সিএ/এমআর


