ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি প্রবীণদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারকে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বয়স ও শারীরিক অসুবিধা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগে তাঁদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
৯০ বছর বয়সী মো. শফিক লাঠিতে ভর দিয়ে গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে ভোট দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ স্ত্রীও। ভোট দেওয়ার পর মো. শফিক বলেন, কিছুটা কষ্ট হলেও নির্বিঘ্নে পরিবার নিয়ে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ঢাকা–১৬ আসনের আহছানিয়া মিশন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন ৭০ বছর বয়সী উজির আহমেদ। একজন আনসার সদস্যের সহায়তায় তিনতলা পর্যন্ত উঠতে তাঁর সময় লাগে। কষ্ট হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটা ভোটের অনেক দাম, বাবা।’
ঢাকা–১০ আসনের ভোটার ৭৪ বছর বয়সী মাহফুজুল হক ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। একই আসনের আরেক প্রবীণ ভোটার ৮০ বছর বয়সী মিজানুর রহমান নয়াটোলা আনওয়ারুল উলূম নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসা কমপ্লেক্স কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি জানান, বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এবার সকাল সকাল কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী মো. আবুল হোসেন ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘২০০৮–এর পর ১৭ বছর কোনো ভোট দিইনি। এবার একটু উৎসবের মতন লাগছে। তাই পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে এসেছি।’
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে–বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’–‘না’ ভোট দিয়ে মত জানাচ্ছেন ভোটাররা।
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে।
সিএ/জেএইচ


