ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ভয় হলো, ইনসুলিন নিলে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসক ইনসুলিন শুরু করার কথা বললেই অনেক রোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ইনসুলিন নিতে দেরি করেন অনেকে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইনসুলিন শরীরের একটি স্বাভাবিক হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়াবেটিসে যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করে না, তখন বাইরে থেকে ইনসুলিন দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনসুলিন নিজে থেকে কিডনি নষ্ট করে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করাই কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইনসুলিন শুরু করা হয় বলে রোগীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয় যে ইনসুলিনই সমস্যার মূল কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সঠিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এ ক্ষেত্রে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগীদের জন্য অনেক সময় ইনসুলিনই সবচেয়ে নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি। কিছু মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু ইনসুলিন সেই ঝুঁকি তৈরি করে না।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনসুলিন নিয়ে ভয় নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সিএ/এমআর


