অ্যাপলের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ আইওএস ২৬.২.১ ইনস্টল করার পর নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন অনেক আইফোন ব্যবহারকারী। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, আপডেটের পর অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফোন নিজে থেকেই রিস্টার্ট হচ্ছে এবং ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
নতুন এয়ারট্যাগ মডেলের সমর্থন যুক্ত করতে এই হালনাগাদ আনা হলেও অনেকের মতে, এটি প্রত্যাশার বিপরীতে ফোনের স্থিতিশীলতা ও সামগ্রিক কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আপডেট প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটি ও ফোরামে সমস্যার কথা জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইওএস ২৬.২.১–সংক্রান্ত অভিযোগে অ্যাপলের কমিউনিটি ফোরাম ভরে উঠেছে। সাধারণত সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে আগের সংস্করণের ত্রুটি দূর করে ডিভাইসকে আরও স্থিতিশীল করা হয়। কিন্তু ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায়, এই সংস্করণে সমস্যা কমার বদলে বেড়েছে।
ফোরামে দেওয়া একাধিক পোস্টে বলা হয়েছে, আপডেট ইনস্টল করার জন্য অনেক ব্যবহারকারীকে প্রায় ৩০ গিগাবাইট ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় জায়গা করতে একাধিক অ্যাপ মুছে ফেলার পরও আপডেট শেষ হলে ফোন বারবার হ্যাং করছে এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই অ্যাপ ও সিস্টেম ক্র্যাশ হচ্ছে। কারও কারও মতে, আপডেটের পর তাঁদের ফোন কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অ্যাপ ক্র্যাশের পাশাপাশি সংযোগজনিত সমস্যাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, হালনাগাদের পর ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগ স্থিতিশীল থাকছে না এবং ইন্টারনেটের গতি আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে কাজ ও যোগাযোগে ভোগান্তি বাড়ছে।
এদিকে অনেক ব্যবহারকারীর জন্য এই হালনাগাদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিল না। আগের আইওএস সংস্করণগুলোর সমর্থন বন্ধ করে দেওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়েই নতুন সংস্করণে আপডেট করতে হয়েছে। ফলে সমস্যায় ভরা এই সংস্করণেই থাকতে হচ্ছে এবং পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষা করা ছাড়া তাত্ক্ষণিক কোনো সমাধান দেখছেন না তারা।
সিএ/এমআর


