নিজের কুপ্রবৃত্তি বা নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই অনুভব করেন, ভালো পথে চলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নফস বারবার ভুল পথে টেনে নেয়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই উপলব্ধিই আত্মশুদ্ধির পথে প্রথম ধাপ।
ইসলামে নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে জিহাদুন নফস বলা হয়। আল্লাহর রাসুল সা. এই আত্মসংযমের সংগ্রামকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নফস দমন মানে সব ইচ্ছা দমন নয়; বরং নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর নির্দেশনার অধীনে আনা।
পবিত্র কোরআনে নফসের তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছে। নফসে আম্মারা মানুষকে মন্দ কাজে প্ররোচিত করে, নফসে লাওয়ামা ভুল করলে অনুশোচনা জাগায়, আর নফসে মুতমাইন্নাহ আল্লাহর সন্তুষ্টিতে প্রশান্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নফসকে জয় করতে হলে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হয়। নিজের দুর্বলতাগুলোর তালিকা তৈরি করে ছোট অভ্যাস পরিবর্তন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরিবেশ পরিবর্তন, সৎসঙ্গ বেছে নেওয়া এবং নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির নফস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
রোজা রাখা নফসকে নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শক্তিশালী উপায় হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে ভুল থেকে ফিরে আসার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, নফসের বিরুদ্ধে এই লড়াই কোনো একদিনের বিষয় নয়। এটি আজীবনের প্রক্রিয়া। হাল না ছেড়ে বারবার আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই প্রকৃত সফলতা।
সিএ/এমআর


