কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী) আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামকে প্রকাশ্যভাবে সমর্থন জানান।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নাগেশ্বরীর ডিএম একাডেমি ফুটবল মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক জনসভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। গণঅধিকার পরিষদের লাঠি প্রতীকের প্রার্থী বিন ইয়ামিন সরাসরি মঞ্চে উঠে তার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আমির আজিজুর রহমান সরকার। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।
বক্তারা তাদের বক্তৃতায় দেশ পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তারা একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় ভোটারদের ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেন নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে জনগণের গভীর আগ্রহেরই প্রতিফলন। নির্বাচনের দিন যতই কাছে আসছে, কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশ ততই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে এই নির্বাচনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র কুড়িগ্রাম-১ আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিন ইয়ামিন মোল্লার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো প্রার্থীর অপ্রত্যাশিত প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও সমর্থন প্রদান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। জনমনে এ নিয়ে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে অন্যান্য দল ও প্রার্থীরা কী ধরনের কৌশল নেন, তা এই আসনের ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।
রতন রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


