বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ধাক্কায় বিটকয়েনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ২৯৫ ডলারে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েনের বাজারমূল্য প্রায় ১২.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন।
ক্রিপ্টো বাজারের তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা কয়েনগ্লাস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের বিটকয়েন পজিশন লিকুইডেট হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, গত বছরের অক্টোবরে ক্রিপ্টো বাজারের শিখর ৪.৩৭৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়েছে। শুধু গত এক মাসেই বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।
বিটকয়েনের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও ১৩ শতাংশের বেশি কমে ১ হাজার ৮৫৪ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ইথারের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধসের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে:
১. প্রযুক্তি শেয়ার ও মূল্যবান ধাতুর পতন: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার অস্থিরতা এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ ক্রিপ্টো বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নেওয়া কমাচ্ছেন।
২. ফেডারেল রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ: ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে বেছে নেওয়ার প্রভাব ক্রিপ্টো বাজারে নেতিবাচক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ারশ যদি ফেডারেল রিজার্ভের ব্যালেন্স শিট সংকুচিত করেন, তাহলে বাজারে তারল্য কমে যাবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দাম আরও হ্রাস পাবে।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষয়: ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন ইটিএফ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উঠানো হচ্ছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে বেরিয়েছে, যা দেখাচ্ছে বড় বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টো সম্পদে আস্থা হারাচ্ছেন।
কয়েন ব্যুরোর বিনিয়োগ বিশ্লেষক নিক পাকরিন জানিয়েছেন, ক্রিপ্টো বাজার এখন পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ বা ‘ক্যাপিচুলেশন’ মোডে রয়েছে। এটি আর কোনো সাময়িক সংশোধন নয়, বরং বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত উৎসাহ এবং প্রযুক্তি খাতের মন্দা ক্রিপ্টো খাতের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে। যদি বিটকয়েন মাইনাররা বাধ্য হয়ে তাদের মজুত করা মুদ্রা বিক্রি করতে শুরু করেন, ধস আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিএ/এসএ


