টানা নেতিবাচক রফতানি ও আসন্ন ছুটির কারণে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা উৎপাদন ও অর্থপ্রদানের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ছুটি, রোজা ও ঈদ মিলিয়ে মোট ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অগ্রিম পরিশোধে স্বল্প সুদে ঋণ ও বকেয়া প্রণোদনা দ্রুত ছাড়ার দাবি উঠেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি অর্থসহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তার বিকল্প নেই।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক রফতানি ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। টানা ছয় মাসের মন্দা ও আসন্ন ছুটি মিলিয়ে রফতানি খাতের জন্য আগামী দুই মাস কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, বাৎসরিক ছুটির তালিকায় নির্বাচনের ছুটি নেই। এবার নির্বাচনের কারণে গার্মেন্টস বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সঙ্গে রোজা ও ঈদের ছুটিও রয়েছে, যা পেমেন্ট ও অর্ডার শিপিংয়ে প্রভাব ফেলবে।
শিল্প মালিকদের মতে, ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকবে, তবে মার্চে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে হবে। বোনাস ও অগ্রিম মিলিয়ে মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। রফতানি মন্দার সময়ে অর্থসহায়তা ছাড়া মজুরি পরিশোধ ও উৎপাদন সচল রাখা কঠিন।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারি-নির্বাচন, মার্চ-রোজার ঈদ, মে-মহান কোরবানির ঈদ—এই ছুটির ধারা রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার যদি এই সময়ে সহায়তা দিত, কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রফতানি আয়ের ক্ষতি বিদেশি ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি বাড়াবে। র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প চাপের মধ্যে রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ভর্তুকি দিতে পারে সরকার, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে খাতের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবসায়িক বান্ধব নীতিসহায়তা জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করে স্বল্প সুদে ঋণ ও প্রণোদনার বকেয়া দ্রুত ছাড় চেয়েছে।
সিএ/এসএ


